চিড়িয়াখানা ভ্রমণ – মিরপুর, ঢাকা । অনেকদিন হল ভ্রমন নিয়ে লিখা হচ্ছে না। যদিও ঘুরাঘুরি চলছিল ঠিকই! যাইহোক আবার ব্যাক করেছি। ইনশাআল্লাহ্‌ এখন থেকে নিয়মিত লেখার চেষ্টা করব।

পড়াশোনার জন্য ঢাকায় থাকা হচ্ছে অনেক বছর হয়ে গেলো। ঢাকায় এসে প্রথমে গাজীপুর এর দিকে থাকা হয়েছিল ৬ মাস এর মত।

নতুন পরিবেশ এবং ঠিক মত না খাওয়ার ফলে অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল এ ভর্তি হতে হয়েছিল। তারপর গাজীপুর থেকে মিরপুর এর দিকে চলে আসি। এরপর এখানেই থাকা হচ্ছে।

মিরপুর এ চিড়িয়াখানা এবং বোটানিক্যাল গার্ডেন এর ঠিক পাশেই আমার বাসা। চিড়িয়াখানা এবং বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশে বাসা হওয়ায় প্রায়শই চিড়িয়াখানা এবং বোটানিক্যাল গার্ডেন এ যাওয়া হয়।

বেশি যাওয়া হয় বোটানিক্যাল গার্ডেনে! ক্রিকেট খেলার জন্য। খেলা শেষে আবার চলে আসি। বোটানিক্যাল গার্ডেনে ঢুকার জন্য টিকিট কাটতে হয়। জন প্রতি ২০ টাকা করে।

কিন্তু আমরা ঢুকি ফ্রিতে! চিপা রাস্তা দিয়ে! আরামসে…। ফ্রি পেলে টাকা দেয় কে বলেন।

বোটানিক্যাল গার্ডেন নিয়ে আরেকদিন কথা বলব। আজকে আমরা চিড়িয়াখানা ভ্রমণ এ যাব। যেটা, মিরপুর ঢাকা তে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা। আগে অবশ্য এটার নাম ছিল ঢাকা চিড়িয়াখানা। ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নাম পরিবর্তন করে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা নামকরণ করা হয়।

একনজরে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা

ভ্রমণ স্থানের নাম বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা
অবস্থান মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ
স্থাপিত ২৩শে জুন, ১৯৭৪
উদ্বোধন ২৩শে জুন, ১৯৭৪
আয়তন ১৮৬ একর
প্রাণীর সংখ্যা ২১৫০
প্রজাতির সংখ্যা ১৯১
বার্ষিক পরিদর্শক ৩,০০০,০০০
তথ্যসূত্র – উইকিপিডিয়া

সময়সূচী

রবিবার সাপ্তাহিক বন্ধ
সোমবার ০৯:০০–১৮:০০
মঙ্গলবার ০৯:০০–১৮:০০
বুধবার ০৯:০০–১৮:০০
বৃহস্পতিবার ০৯:০০–১৮:০০
শুক্রবার ০৯:৩০–১৯:০০
শনিবার ০৯:০০–১৮:০০
তথ্যসূত্র – গুগল ম্যাপ

ভ্রমণের প্রস্তুতি

নাদিম আমার এলাকার ছোট ভাই। থাকে মতিঝিল।  ও অনেকদিন ধরেই আমার এখানে ঘুরতে আসার কথা বলছিল। 

নাদিম এর অফিস যেহেতু শুক্রবার বন্ধ, তাই ও বৃহস্পতিবার রাতে আমার এখানে চলে আসে।

রাতের খাবার খেয়ে আমরা অনেকক্ষণ গল্প করলাম। 3D ছবি দেখলাম। আর ফাঁকে ফাঁকে RJ Farhan এর প্রেংক কল গুলো শুনলাম আর হাসলাম। বেটা ফারহান একটা জিনিস রে বাবা!

যাইহোক, রাত প্রায় ৩ঃ৩০ মিনিট এর দিকে আমরা শুয়ে পড়লাম।

ভ্রমনের দিন

ভ্রমনের দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠার চেষ্টা করেও উঠতে পারিনি। আমাদের ঘুম ভাংলো প্রায় ১১টার দিকে।

ঘুম থেকে উঠেই ওয়াশ রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। ফ্রেশ হয়ে সকাল এর নাস্তা করতে করতে দুপুর ১২ঃ৩০ মিনিট! 

এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে, ২টার দিকে বের হব। 

২টার কথা বললে কি আর ২ টায় বের হওয়া যায়। রেডি হয়ে আমাদের বের হতে হতে ঘড়িতে সময় তখন ৩টা!

তাড়াহুড়া করে বাসা থেকে বের হলাম। বাসা থেকে বের হয়ে মনে হল, মিরপুরে আমার এক চাচা (নুরে আলম), মামা (কামরুল ইসলাম) থাকেন। তাদের সাথে নিলে ভ্রমন টা আরো মজার হবে।

শুক্রবার যেহেতু সবার অফিস বন্ধ থাকে তাই ২ জনকেই কল দিলাম। 

চাচা গ্রামের বাড়ি গেছেন। আর মামার কি যে এক কাজ আছে। অগন্তু আমরা ২ জনই রিক্সায় চেপে চিড়িয়াখানার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আগেই বলেছি, চিড়িয়াখানা আমার বাসার খুব কাছে।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর ভ্রমণ, ঢাকা

চিড়িয়াখানা ভ্রমণ

আমরা ২০ মিনিট এর ভিতর চিরিয়াখানা চলে আসলাম। এসে একটা ব্যাপার লক্ষ্য করলাম যে, এর আগে আমি যতবারই এখানে এসেছি কখনো আজকের মত এতো মানুষ দেখিনি!

আজকের দিনে প্রচুর দর্শনার্থী হয়েছে। আমরা রিক্সা থেকে নেমে কিছুটা হেটে টিকিট কাউন্টারে চলে আসলাম। টিকিট এর দাম বাড়ার কথা থাকলেও এখনো তারা টিকিট এর দাম বাড়ায়নি। 

২টা টিকিট কেটে আমরা চিরিয়াখানার ভিতরে প্রবেশ করার জন্য লাইনে দাঁড়ালাম।

চিড়িয়াখানার দিকে মুখ করে দাঁড়ালে আপনার হাতের ডান পাশেই দেখতে পাবেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান। যেটা বোটানিক্যাল গার্ডেন নামেও পরিচিত।

চিড়িয়াখানার ভিতরে ঢুকেই যা দেখলাম

চিড়িয়াখানা ভিতরে ঢুকেই যা দেখলাম তা হল, গাছ! হুম গাছ। প্রচুর গাছপালা আছে চিড়িয়াখানাতে। 

চিড়িয়াখানা ঢুকে সোজা গেলে প্রথমে চোখে পড়বে বানরের খাঁচা। সাথে পুরো চিড়িয়াখানার ম্যাপ এবং কিছু নির্দেশনা। 

প্রাণীদের খাবার দিবেন না। খাঁচার একেবারে কাছে যাবেন না… ব্লা ব্লা…

আর, চিড়িয়াখানা ঢুকেই আপনি যদি হাতের বা দিকে যান, তাহলে এদিক দিয়ে রয়েছে পুরুষ ও মহিলাদের টয়লেট, কিছু খাবারের দোকান।

এরি মাঝে মোবাইলের রিংটন টা বেজে উঠল। কামরুল মামা কল দিয়ে জানালেন মামা এবং তার এক ফ্রেন্ড আসছেন চিড়িয়াখানায়! সময় লাগবে ৫ মিনিট এর মত।

শুনেই ভালো লাগল। যাক, একসাথে সবাই মিলে মজা করে ঘুরা যাবে।

আরও পড়ুনঃ জাতীয় স্মৃতিসৌধ ভ্রমণ সাভার, ঢাকা

চিড়িয়াখানা এর ভিতরে ঘুরা শুরু করবেন যেভাবে

প্রথমে কিছু নির্দেশনাবলী

  1. চিড়িয়াখানার ঘুরার জন্য চিড়িয়াখানা ঢুকে প্রথমে সোজা যাবেন। একটু সামনে গেলেই দেখতে পাবেন পুরো চিড়িয়াখানার একটি বড় ম্যাপ রয়েছে। সাথে দেখতে পাবেন সামনেই একটি বানরের খাঁচা। বানরের সাথে দেখা করার পর আপনি হাতের বা দিকে যাবেন। 
  2. হাতের বা দিক দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে আপনি আস্তে আস্তে ডান দিকে যাবেন। এভাবে করেই আপনার পুরো চিড়িয়াখানা ঘুরা শেষ করবেন। চিড়িয়াখানাও এই নিয়ম টা ই দিয়েছে। যাতে আপনি পুরো চিড়িয়াখানার সব গুলো প্রানির দেখা পান।
  3. চিড়িয়াখানার প্রাণীদের খাবার দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
  4. হিংস্র প্রানি যেমনঃ বাঘ, সিংহ, সাপ এসব প্রাণীদের খাঁচা থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখুন।
  5. আপনার সাথে যদি ছোট বাচ্চা থাকে তাহলে, তাদেরকে সব সময় কাছে রাখুন। প্রয়োজনে হাত ধরে রাখুন। কারন, চিড়িয়াখনা অনেক বড় এবং সবসময় এখানে প্রচুর মানুষের সমাগম থাকে। একবার যদি আপনার বাচ্চা কে হারিয়ে ফেলেন, তাহলে তাকে খুজে পেতে অনেক সময় লাগবে। এর ফলে আপনার আনন্দ ভ্রমন নিরানন্দ হয়ে যাবে।
  6. আর যদি, এরকম সমস্যায় পড়েই যান। তাহলে ঘাবড়ানর কিছু নেই। কারন, চিড়িয়াখানার ভিতরে একদল সদস্য রয়েছে, যারা আপনার সহযোগিতা করার জন্য রেডি হয়ে থাকে সবসময়। আপনি ভিতরে চুকলেই তাদের মাইকের শব্দ পাবেন।
  7. চিড়িয়াখানা ঢুকার পূর্বে সাথে পানি এবং শুঁকন খাবার নিয়ে নিন। কারন, এতো বড় চিড়িয়াখানা ঘুরতে ঘুরতে আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন। তাছাড়া, উচু নিচু যায়গা দিয়েই আপনাকে ভ্রমন করতে হবে।
  8. যতটা সম্ভব খোলামেলা জামাকাপড় পড়ে চিড়িয়াখানা যাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে ক্লান্তি কম লাগবে।
  9. ভ্রমন উপযোগী জুতা পরার চেষ্টা করুন।
  10. সবসময় আপনার মানিব্যাগ এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আপনার হেফাজতে রাখুন।

চলুন চিড়িয়াখানা ভ্রমণ শুরু করা যাক

হাতের বা দিক দিয়ে গেলে এক এক করে দেখতে পাবেন গণ্ডার, গরিয়াল, হরিন, গয়াল, হাতি, জিরাফ ইতাদি প্রানির খাঁচা। আপনি কম সময় নিয়ে সব প্রানি দেখার জন্য দ্রুত  হাটবেন না। এতে আপনি দ্রুতই ক্লান্ত হয়ে পড়বেন।

হাটতে হাটতে সবচেয়ে বেশি ভীড় দেখতে পাবেন জিরাফ এর খাচার দিকে। আমি যতবারই চিড়িয়াখানায় গিয়েছি, ততবারই এই বিষয়টা লক্ষ্য করেছি।

আমি প্রথম চিড়িয়াখানা এসেছিলাম আমার চাচা (জাকির হোসেন) এর হাত ধরে। তখন আমার বয়স আনুমানিক ৭ কি ৮ বছর। আমি আমার মেঝো ভাই মোয়াজ্জেম হোসেন কে চাচা এখানে ঘুরতে নিয়ে এসেছিলেন।

বাঘ এবং সিংহের খাঁচা

বাঘ এবং সিংহের খাঁচা রয়েছে চিড়িয়াখানার একেবারে শেষের দিকে। আপনি সাপ এর সাথে দেখা করে একটু সামনে এগিয়ে দেখতে পাবেন বেশ বড় হরিন এর খাঁচা। হরিন এর খাচার পাশদিয়ে বা দিকে গেলেই দেখতে পাবেন বিশাল এর ঝিল। তার ডান পাশেই বাঘ এবং সিংহের খাঁচা।

এরপর আবারো হরিনের খাঁচা।

আপনি ঠিকমত সবগুলো খাঁচায় ঘুরলে আপনার প্রায় ১ দিন সময় লেগে যাবে। 

হরিণ এর খাঁচার পাশেই ছোট ছোট টুল রয়েছে। ক্লান্ত বোধ করলে কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে নিতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ সুন্দরবন এবং বাগের হাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ ট্যুর

প্রাণী জাদুঘর

চিড়িয়াখানা এর ভিতরেই রয়েছে প্রাণী জাদুঘর। এখানে আপনি ঘোড়ার ডিম থেকে শুরু করে হাজার বছর পুরনো কচ্ছপ দেখতে পাবেন। এছাড়াও নানা প্রজাতির সাপ ও অন্যান্য প্রানি রয়েছে এই প্রাণী জাদুঘরে। 

প্রাণী জাদুঘর এ ঢুকার জন্য আপনাকে আলাদা করে টিকিট নিতে হবে।


ট্রিপডো ইউটিউব চ্যানেল: TripDaw