প্রথম লঞ্চ ভ্রমণ, রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতা নিয়ে ভ্রমণ কাহিনী লিখেছেন আরমান খাঁন ।

কাক ডাকা ভোরে আমি দাড়িয়ে আছি একটা দ্বন্দ্বের সামনে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিনা আমি কোনদিকে যাবো কোন লঞ্চ এ উঠবো, কারন আমার এর আগে লঞ্চ এ চড়ার কোনো অভিজ্ঞতা নাই এবং আমাদের টিকেট এর সাথে ঘাট এ দাঁড়িয়ে থাকা লঞ্চ নাম্বার এর মিল ছিলো না…

প্রথম লঞ্চ ভ্রমণ

প্রথম লঞ্চ ভ্রমণ


ঠিক তখনি একজন আমাদের হাতের টিকেট লক্ষ করে আমাদের সামনে থাকা লঞ্চ টাতে উঠতে বলেন আমরা সকলে উঠে পরলাম লঞ্চে এভাবে শুরু হয় আমার প্রথম লঞ্চ ভ্রমণ, রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতা।

১৩.০২.২০২০ এ আমাদের অফিস থেকে আমরা কয়েকজন সহকর্মী সেবার রেড বাংলাদেশ যেটি একটি বিমান টিকেট ইস্যুর প্লাটফর্ম, এর সৌজন্য আমরা কিছু ভ্রমণ টিকিট পাই যেটা ছিল এভিয়েশন ক্লাব বাংলাদেশের, নৌ-বিহার ২০২০, চাদঁপুর। যথারিতি আমরা আমাদের টিকেট ও টিশার্ট বুঝে পাই রাতের দশটায় এরপর বাসায় গিয়ে ব্যাগ গুছানো শুরু করি। ব্যাগ গুছানো শেষ করে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমাতে চলে যাই যেহেতু আমাদের সকাল ৭ টায় সদরঘাট থাকতে বলা হয়েছে।

আমরা যে যার মতো মোবাইলে এলার্ম দিয়ে রাখলাম যাতে করে ঘুম না ভাংগার দরুন আমাদের ভ্রমণ টা মিস না করি। যথারীতি আমরা ভোরে উঠে পরি গোসল শেষ করে যে যার মতো তৈরী হই যেহেতু ব্যাগ গুছানো ছিল যার কারনে আমরা খুব দ্রুতই বের হয়ে পরি হাল্কা ঠান্ডা থাকার কারনে আমরা হাল্কা শীতের কাপর নেই, এরপর আমরা দুই দলে ভাগ হয়ে উবার কার এ সদরঘাটের দিকে যাত্রা শুরু করি।

পথিমধ্যে আমাদের গাড়ির চালক জানান তার গাড়িতে গ্যাস নাই সে গ্যাস নেবে, গ্যাস নেওয়া শেষ করে আমরা কোন রকম ঝামেলা ছাড়া সদরঘাট পৌছাই, গিয়ে আমরা ঘাটে প্রবেশ টিকেট ক্রয় করে ভিতরে প্রবেশ করি, আমাদের টিকেটে লঞ্চ নাম্বার ছিল কির্তনখোলা-১০ কিন্তু আমাদের ভ্রমণের বান্যার লাগানো ছিল কির্তনখোলা-২ ।

আরও ভ্রমণ কাহিনী : ট্রেন আমায় প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে দিল না!

আরমান খান

কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকার পরে অন্যান্য লোক জনের সাথে আমরা কথা বলে আমাদের কাংখিত লঞ্চে উঠে পরি, আমাদের কিছু লোকজন অন্য লঞ্চে উঠে, পরে তাদের মোবাইলে কল করে এই লঞ্চে আসতে বলি, আমাদের লঞ্চ ছাড়ার কথা ছিলো সকাল সাতটায়, আমরা অপেক্ষা করতে থাকি কখন লঞ্চ যাত্রা শুরু করবে, এর মাঝে আমরা কয়েকজন লঞ্চের ছাদে উঠে পরি এবং প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে থাকি।

আরমান খান

আমার ভ্রমণ সঙ্গী ছিল, জাভেদ, রায়হান,ইমরান,রবিউল, আলি সহ আরও বেশ কয়েকজন আমরা সকলেই এক অফিসে চাকুরী করি।

সকাল দশটার কিছু সময় পরে আমাদের সকাল বেলার নাস্তা দেওয়া হয়, আমরা প্রায় সকলেই ক্ষুধায় কাতর হয়ে পরছিলাম নাস্তা করতে করতেই আমাদের লঞ্চ যাত্রা শুরু করে, আমরা নাস্তা শেষ করে লঞ্চের ছাদে গিয়ে আড্ডা মারতে থাকি, আর নদীর দুই পাড়ের দৃশ্য দেখতে দেখতে এগোতে থাকি নদীর বুক চিরে, লঞ্চে আমাদের সকলের জন্য চা,কফি এর ব্যবস্থা ছিলো আমরা সেগুলো সংগ্রহ করি। আস্তে আস্তে রোদের তেজ বাড়তে থাকায় আমরা ছাদ থেকে নেমে আসি এবং কেবিন এর সামনে রাখা চেয়ারে বসে গল্প করতে থাকি।

ইতিমধ্যে লঞ্চ বুড়িগঙ্গা পার হয়ে পদ্মা নদীতে এসে পড়ে। এর মাঝেই আমাদের একজন এসে খবর জানায় যে দুপুরের খাবার বিতরণ শুরু করছে আমরা সকলে সকালের অভিজ্ঞতা থেকে সিদ্ধান্ত নেই যে আমরা আগে গিয়ে খাবার খেয়ে নিবো , যা ভাবা তাই কাজ আমরা লঞ্চের ডেকে গিয়ে লাইন ধরে টোকেন দিয়ে খাবার সংগ্রহ করে ডেকে রাখা চেয়ার টেবিলে বসে খাওয়া সম্পন্ন করে ফেলি, অনেকেই টেবিলে যায়গা না পেয়ে চেয়ারে বসেই খাওয়া শুরু করে। দুপুরের খাবার শেষ করে সকলে বিশ্রাম শুরু করে আর আমাদের লঞ্চ চাঁদপুরের দিকে এগোতে থাকে।

কিছুদুর যাওয়ার পরে মোহনপুর নামক স্থানে লঞ্চ তীরে ভেরায়, আমরা সকলে লঞ্চ থেকে নেমে পরি অনেকে পদ্মায় গোসলের উদ্দেশ্য নেমে পরে কেও কেও ফটোসেশান শুরু করে, কেও একজন ফুটবল নিয়ে নেমে পরে খোলা মাঠে, সবার একটাই উদ্দেশ্য পরিবেশ টাকে আনন্দময় করে তোলা। প্রায় ঘন্টাখানেক থাকার পরে আমাদের লঞ্চ ছাড়ার সময় হয়ে পরে আমরা সবাই তারাহুরো করে লঞ্চে উঠে পরি।

আরও ভ্রমণ কাহিনী: বিমান সুন্দরীগণ সেদিন আমার কথা রাখলেন না

আমাদের নৌবিহারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এর ব্যাবস্থা ছিল লঞ্চ ঢাকার দিকে রওনা শুরু করবার পরে আমরা যারা সিংগেল হিসেবে ভ্রমণে গেছি তারা সকলে মিলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে বসে পরি আর যারা কাপল হিসেবে গেছেন তারা তাদের মতো করে সময় কাটাতে শুরু করে, কেও কেও লুডু খেলা আরম্ভ করে কেবিনে বসে বসে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এ আমাদের মধ্যে থেকে যাদের গানের গলা ভালো মূলত তারাই গান গায় আমরা গানের সাথে সাথে নাচতে আরম্ভ করি কিছুক্ষণ সেখানে থেকে আমি লঞ্চের ছাদে চলে যাই গিয়ে পুরো মুগ্ধ হয়ে পরি পরন্তু বিকেলে নদীর দুই পারের সৌন্দর্য দেখে পরন্তু সুর্যের লাল আলো নদীর পানিতে পরে অপরুপ এক দৃশ্যের সৃস্টি করে।

ওখানে বেশ কিছু সময় কাটানোর পরে একটু চা পানের ইচ্ছে জাগে এই ইচ্ছে কে কাজে লাগাতে নিচে ডেকে এসে পরি চা পান করে আমরা আবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে বসে পরি। এভিয়েশন ক্লাব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে র‍্যাফেল ড্র এর ব্যাবস্থা ছিল সন্ধার পরে চলে তার পুরস্কার বিতরণ। এছাড়াও ১৪ ফেব্রুয়ারিতে যারা বিয়ে করেছেন তাদের বিবাহ বার্ষিকি উপলক্ষে তাদেরকেও পুরস্কৃত করা হয়।

পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান শেষ করতে করতে আমরা সদরঘাট এসে পরি তারপর সকলের কাছে বিদায় নিয়ে বাসায় চলে আসি এভাবে শেষ হয় আমার প্রথম লঞ্চে ভ্রমণ।

প্রথম লঞ্চ ভ্রমণ কাহিনী লিখেছেনঃ মোঃ আরমান খাঁন


ট্রিপডো ফেসবুক: TripDaw