ইলিশ মাছ নিয়ে কবিতা রয়েছে অনেক। চাঁদপুরের বিখ্যাত ইলিশ মাছ নিয়ে আজকের পোস্টে বেশ কিছু বিখ্যাত কবিতা শেয়ার করব। আশাকরি আপনার ভালো লাগবে।

ইলিশ মাছের জন্য বিখ্যাত হচ্ছে চাঁদপুর। চাঁদপুরের ইলিশ খেয়েছেন অথচ প্রশংসা করেন নি এরকম কোন মানুষই খুঁজে পাওয়া যাবে না।

চাঁদপুরের ইলিশ নিয়ে রয়েছে অনেক নাটক, গান, জারি, কৌতুক, কবিতা সহ আরও ইলিশ মাছের ছড়া কত কি! বেশ কিছুদিন আগে আমি চাঁদপুর ভ্রমণে গিয়ে ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর ভ্রমণ নিয়ে একটি আর্টিকেল লিখেছি।

মাছ নিয়ে কবিতা রয়েছে শুধু ইলিশের ক্ষেত্রে! অন্য কোন মাছ নিয়ে কবিতা রয়েছে কি? শুধু ইলিশ মাছ নিয়ে কবিতা না রয়েছে সাহিত্যে ইলিশ !

আর কোন কথা হবে না। চলুন এখন ইলিশ নিয়ে লিখা কবিতা পড়া যাক।

ইলিশ মাছ নিয়ে কবিতা


ইলিশের ঝোলে

মিজানুর রহমান মিথুন

 

চাইনিজ, বার্গার, ফেলে মন ভোলে

ইলিশের ঝোলে, সে তো ইলিশের ঝোলে।

এক বাড়ি পাক হলে সারা পাড়া জুড়ে,

বাতাসে সুবাস যেন আসে ঘুরে ঘুরে।

দাদু ভাই যদি খায় ইলিশের ঝোলে

রসিয়ে, রসিয়ে এই গল্পটা তোলে।

‘সরষে ইলিশ’ নাকি খেতো থালা ভরে,

‘ইলশে লেবু’ খেতো দুই হাতে ধরে।

পুকুরেও ছিলো নকি ইলিশের ঝাঁক,

দাদুর গল্প শুনে হই হতবাক!!

এমন গল্প শুনে মন শুধু দোলে, এই যুগে খুশি মোরা ইলিশের ঝোলে।

ইলিশ রাজা ইলিশ রানী

রিফাত নিগার শাপলা

 

ইলিশ হলো মাছের রাজা, ইলিশ হলো রানী

পদ্মা নদীর ইলিশ মানে, জিভের ডগার পানি!

ইলিশ মাছের দো-পেয়াজ, ইলিশ মাছের ঝোল

সর্ষে ইলিশ খেয়ে প্রানে, বাজে সুখের ঢোল।

ইলিশ মাছের মাথা-লেজের সাথে কচুর লতি

আহা, সেকী উপাদেয়, তৃপ্তি আনে, অতি!

ইলিশ পোলাও রাঁধার সময়, খুশবু ছড়ায় ভারী

বর্ষাকালে ইলিশ মাছের বেজায় কাড়াকাড়ি!

নোনা ইলিশ, পোনা ইলিশ, ঝাটকা ইলিশ মাছে

অসাধারণ ‘ইলিশ-ইলিশ’ গন্ধ মাখা আছে।

ইলিশ নিয়ে আলোচনা, ইলিশ নিয়ে গান

জেলের জালে ইলিশ লাফায়, জুড়ায় দেখে প্রান!

‘মাছের সেরা ইলিশ’ প্রীতি, ছন্দে করি পেশ

রূপালি তার গায়ের বরন, রূপ ঝলমল বেশ।

ইলিশ মাছের নেই তুলনা, ইলিশ সবার প্রিয়

ইলিশ রানী, ইলিশ রাজা, আমার স্নেহ নিও।

ইলিশ ও শৈশব

আজিজ লিপন

 

রূপালী ইলিশের সেই ঘ্রাণে আজও খুঁজে ফিরি আমার সোনালী শৈশব, দুরন্ত কৈশর।

শিকোয় ঝুলানো সেই সর-বাধা পাতিলটা স্মৃতির আঙ্গিনায়, জ্বল-জ্বল।

মনে পড়ে সর্ষে ইলিশের ঝোলমাখা এক থালা ভাত।

হুলো-বিড়ালের আতি-পাতি।

কোমল রোদে শীতের সকাল।

 

আজ সব অতীত।

অতীত হয়েছে ইলিশের ঐতিহ্য ও ঐশ্বর্য।

হাতে ঝোলানো মস্ত বড় ইলিশ আজ আর চোখে পড়েনা।

আমি যেমন খুন হয়েছি কৈশরে।

তেমনি ইলিশ খুন হয়েছে জাটকা হয়ে।

চকচকে সেই ইলিশের ঝাঁক দস্যুর আগ্রাসনে বিলীন হতে চলেছে স্মৃতির আঙ্গিনা ছেড়ে।

 

তবু জীর্ন অসতীত্ব নিয়ে হাজির হয় ইলিশ।

আমার ভোজন বিলাসী জিভ ভিজে উঠে এক টুকরো নোনা বাঁধা ইলিশের স্বাদে।

আর রুপালী আঁশের ভাঁজে-ভাঁজে

খুঁজি আমার হারানো সোনার দিন গুলি।

 

ইলিশ মাছ নিয়ে কবিতা

মন-মগজের সংলাপে

নিঝুম খান

 

টেবিলে বসেই গপ-গপ ভাত গিলছি

সাথে ডান আর মচমচে ইলিশ ভাজা

ছোট বাটিতেই ইলিশের মাথা রাখা

তার চোখ দুটির আমার দিকে স্থির তাকিয়ে

যেন ক্রোধে ফেটে পড়ছে সে

আমি তখনও খাবার নিয়েই ব্যস্ত

হঠাতই বললো-লজ্জা করে না তোর?

আমি চমকে উঠি, ইলিশের মাথা কথা বলে নাকি!

“আমার কি দোষ? সব দোষ তো জেলের,

সে তোমায় মেরেছে” আমি বললাম

রাগী দৃষ্টিতে মাথাটা তখনও তাকিয়ে,

আবারও বললো “তোর লজ্জা হওয়া উচিৎ”

আমিও এবার বেশ ক্ষেপে গেলাম

জানতে চাইলাম-কেন লজ্জিত হবো, বলো?

মাছের মাথাটা একটু থেকে বললো,

“ওই জেলের ঘরে আজ দু’দিন খাবার জোটেনি”।

প্রিয়তম

মারিয়া ফারজানা

 

প্রিয়তম, তুমি বরং ইলিশের মজে থাকো

তার দ্বি-পার্শ্বীয় চাপা দেহ আছে

আছে ঝকঝকে রূপালি আঁশ

আডিপোজে ঢাকা চক্ষুও আছে বটে

চাইলেই তার উর্ধ চোয়ালের খাঁজে

হারিয়ে যেতে পারো

গুনে যেতে পারো তার পাখনা।

 

আমি তো অনাবাস টেস্টাডিয়াস

অপারকুলামের কিনারা কাটা

খাঁজকাটা আঁশ।

ইলিশীয় রূপে গুনে মোহগ্রস্থ করে রাখতে

আমি কই সত্যিই

পারবো না, পারবো না।

রসনামঙ্গল

শাহমুব জুয়েল

 

সমুদ্রের নোনাজল ছেড়ে ইলিশের নির্ভীক সমাবেশ

মেঘনায় থেকে যায়, ধরা পড়ে জেলে-জালে অবশেষ

ছুটি নিয়ে জলের পর্দা ছিঁড়ে রূপোলী ঢেউ খেলে

পাটাতনে আছড়ে পড়ে টিপটিপ আলোয় নির্নিমেষ

পাড়ায়-পাড়ায় রাত-বিরাতে জমে ঘ্রান উৎসব

কত গল্পে রূপকল্পে কেটেছে আমার শৈশব

 

মাতাল বাতাসে এসে ভিড়ে স্বাদখোঁজা কোলাহল

মুখে মুখে সে ঘ্রান। বিশ্বাস রাখে চম্পক নগরের

চাঁদসওদাগর ও মেজর জেমস রেনেলের

অখ্যাত জনপদের মিঠা জল;

আড়ৎ এখানে চাঙ্গা সমাদর।

 

বউ পুষি ঘরে, নদী পোষে তারে, হাওয়াই আমি

দু’জনারে ভালোবেসে; নামুক দর উভায়ের

খাতির হোক রূপালী বিলাসে

প্রজনন হোক ঘরে বাহিরে; সহজ বিপনন চাই রসনামঙ্গল।

ইলিশের কাঁটা

সুদীপ্ত সরকার

 

পদ্মা নদীর ইলিশ মাছ ৷

খেয়ে বাবুর হাঁস-ফাঁস ৷

বৈদ্যি এল জলদি করে ৷

বলছে বাবু বাঁচাও মোরে ৷

 

ভাজা মাছের কাঁটা দুটো ৷

থেকে থেকে দিচ্ছে গুঁতো ৷

ওষুধ দিয়ে বৈদ্যি গেলো ৷

ধীরে ধীরে সুস্থ হল ৷

 

ভয়ে ইলিশ ছাড়ল খাওয়া ৷

দূর হতে শুধুই চাওয়া ৷

একবার খেয়ে প্রাণে বেঁচেছি ৷

বলতে পারবো ইলিশ খেয়েছি ৷

ইলিশ ভাজা

মাহ্ফুজা নাহার তুলি

 

ইলিশ ভাজা,ইলিশ ভাজা,ইলিশ মাছের রাজা

মাছের রাজা কিনতে গিয়ে ফকির হবার দশা।

থলে হাতে গিন্নী আমায় বলল মুচকি হেসো

এক্ষুনি যাও ইলিশ আনো,আসবে সবাই খেতে।

হেথায় খুঁজি,হোথায় খুঁজি,খুঁজি সারা বাজার

থাকলে ইলিশ একটি দুটি লোক থাকে এক হাজার।

এক দোকানী বলল কেশে ইলিশ নেবেন স্যার

খুব বেশী না দামটা দিয়েন টাকা চারটি হাজার।

দামটা শুনে ঘুরলো মাথা,পড়ল হাতের ছাতা

রাগটা চেপে বলি আমি,ইলিশ আগে দ্যাখা।

ঝুড়ি থেকে কি যেন এক হাতে নিয়ে বলে

এই যে দেখেন মস্ত ইলিশ,মুখ ভরে যায় জলে।

খুব বড় নয় ঠিক যেন এক তেলাপিয়ার আকার

এই কিনতে পকেট ফাঁকা,ফুতুর হবার যোগার।

বর্ষ প্রথম দিনে খাব,পান্তা ইলিশ ভাজা

করতে পূরণ ইচ্ছা আমার ফকির হবার দশা।

নিষিদ্ধ মাছের ঝোল

দন্তন ইসলাম

 

লাখের মতো গুড়া ডিম একটা আবরনে প্যাকেটজাত হয়ে মিঠা নদীতে আশ্রয় নেই,

গর্ভবতী মায়ের বাচ্চা প্রসবনের পরের শরীর ধারণ করা ওসব ডিমের মাছগুলো

বরফহীন ঠান্ডা গুদামে লবন তালাশ করে।

জেলের নির্ভয় কেলিতে হাঁসফাঁস ছড়ায় নৌকার গলুই,

শব্দ পেয়ে ডিমসিদ্ধ সুস্বাদুরা আত্মসমর্পনের দলিল উপস্থাপন করে বস্তার ভেতর!

লাফাতে লাফাতেই চোখ লালচে হয়ে আসে বিশোধিত প্রসূতির।

 

নিষিদ্ধ কবিতার আগ্রহে নেশাগ্রস্ত রাত জাগে,

গোপন চড়ামূল্যে আক্রমণ করে নিষিদ্ধ মধুচক্র চোখ!

আদেশহীন অস্ত্রের ঠমকও বারুদের আগ্রভাগে ঝোলে গাধার মতো;

মাছের পেট কেটেই চালান করা হয় পাস্তাভাতের ঝোল।

নিবারিত ইলিশ, তোমার মূল্য কমে যায় কেনো প্রসূতি মায়ের মতো?


ট্রিপডো ফেসবুক: TripDaw