পানাম নগর ভ্রমণ – সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ। ভ্রমণ করে এলাম ৪৫০ বছরের পুরনো বাংলার প্রথম রাজধানী এবং ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ড এর তালিকায় পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংস প্রায় ঐতিহাসিক শহরের একটি পানাম নগর বা পানাম সিটি থেকে।

পানাম নগর বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলায় অবস্থিত। পুরনো এই নগরটি সোনারগাঁও এর ২০ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত।

আজকে আমি আপনাকে নিয়ে যাব বড়, খাস এবং পানাম এই ৩ নগর এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং ১৫ শতকের ঈসা খাঁ বাংলার প্রথম রাজধানী প্রাচীন সোনারগাঁর এর পানাম নগরে।

আজকের ভ্রমণে সাথে রয়েছি আমি আপনার ভ্রমণ বন্ধু আরিফ হোসেন এবং আমার সাথে রয়েছে জাবেদ এবং নাদিম।

চলুন ভ্রমণ শুরু করা যাক…

পানাম নগর

পানাম নগর পরিচিতি

ভ্রমণ স্থান পানাম নগর
ধরন ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শহর
অবস্থান সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ
স্থাপিত ১৫ শতক
বাড়ির সংখ্যা ৫২টি
উচ্চতা ১ তলা থেকে ৩ তলা
কারিগর মুঘল, গ্রিক এবং গান্ধারী
পুকুর ৪টি
ঢাকা থেকে দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার (প্রায়)
প্রবেশ মূল্য ১৫ টাকা

পানাম নগর সময়সূচি

পানাম নগর খোলা এবং বন্ধ থাকার সময়সূচী।

শনিবার সকাল ৮ – সন্ধ্যা ৭
রবিবার সকাল ৮ – সন্ধ্যা ৭
সোমবার সকাল ৮ – সন্ধ্যা ৭
মঙ্গলবার সকাল ৮ – সন্ধ্যা ৭
বুধবার সকাল ৮ – সন্ধ্যা ৭
বৃহস্পতিবার সকাল ৮ – সন্ধ্যা ৭
শুক্রবার সকাল ৮ – সন্ধ্যা ৭

পানাম নগর কবে বন্ধ থাকে: পানাম নগর সপ্তাহের ৭দিন খোলা থাকে। এছাড়া বিশেষ দিন বা সরকারী দিবসেও খোলা থাকে।

তথ্যসূত্র: গুগল

পানাম নগর ইতিহাস

পানাম নগর এর ইতিহাস সম্পর্কে জানা যাক। বাংলাদেশীদের কাছে পানাম সিটি “হারানো নগরী” হিসাবে সুপরিচিত।

পানাম নগর

সোনাগাঁওয়ে ঈসা খাঁ প্রায় ১৫ শতকের দিকে বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। পানাম বাংলার প্রাচীনতম শহর। ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ড এর তালিকায় পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংস প্রায় ঐতিহাসিক শহরের একটি পানাম নগর বা এই পানাম সিটি।

১৩৩৮ সালে ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ এর আমলে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয় সুবর্ণ গ্রামকে, যা পরে সোনারগাঁ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

এখানে এক সময় ধনী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের বসবাস ছিল। ছিল মসলিনের জমজমাট ব্যবসা। ব্যবসার জন্য এই স্থানটি খুবই প্রসিদ্ধ ছিল।

পানাম নগর

পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা এবং পূর্বে মেঘনা নদী পথে বিলেত থেকে এখানে বিলাতি থানকাপড় ব্যবসার জন্য বিক্রিয় করতে নিয়ে আসতো। আবার এখান থেকে তারা বিখ্যাত মসলিন কাপড় নিয়ে যেতো।

ঠিক ঐসময়ই ইউরোপীয়দের অনুপ্রেরণায় বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বাণিজ্যিক কার্যক্রম চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যে পানাম নগরীতে নতুন ঔপনিবেশিক স্থাপত্যরীতি গড়ে উঠে।

ইংরেজদের নীল বাণিজ্যের কথা মনে আছে আপনাদের? একসময় বাংলার কৃষকদের উপর নীল চাষের জন্য অত্যাচার করত এই ইংরেজরা। তারাই একসময় পানাম নগরীতে গড়ে উঠা কাপড়ের বাণিজ্য দখল করে নেয় এবং এখানে নীলের বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে শুরু করে।

মজার বিষয় বিষয় হচ্ছে, ডব্লিউ. ডব্লিউ. হান্টার এর মতে সুলতানী আমলে পানাম সিটি ছিলো নাকি সোনারগাঁর রাজধানী!

কিন্তু পানাম নগরীতে সুলতানী আমলের তেমন কোন স্থাপত্য নজরে পড়েনি কারো। তাই তাদের এই দাবির সত্যতা সঠিক প্রমাণিত হয় নি।

আরও: তাজমহল সোনারগাঁও

পানাম নগর কোথায় অবস্থিত

পানাম নগর বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলায় অবস্থিত। হারানো এই নগরী সোনারগাঁও এর ২০ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত।

ঢাকা থেকে পানাম সিটি এর দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। যা সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর থেকে ১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

পানাম সিটি

পানাম নগর ভ্রমণ

পানাম নগর ভ্রমণ করে এলাম। ঢাকা থাকার সুবাদে ভ্রমণে তেমন কোন প্রস্তুতি নিতে হয় নি। পানাম সিটি ভ্রমণের কথা শুনে জাবেদ এবং নাদিম যেতে আগ্রহ প্রকাশ করল।

দিনটি ১০ ই মহররম। সরকারী ছুটি। ঢাকার রাস্তা ফাঁকা। কিন্তু কাওরান বাজার পার হওয়ার পর বিশাল এক জ্যামে আটকা পরলাম। ফাঁকা রাস্তায় জ্যাম কীসের?

১০ই মহররম হওয়ায় পাশের রাস্তা দিয়ে বিশাল লম্বা এক মিছিল যাচ্ছে হায় হোসেন, হায় হোসেন করতে করতে। এ দেখে বাসের ভিতরে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা দেখা গেল।

মিছিল চলে যাওয়ার পর আবার বাস চলতে শুরু করল। এরপর আর কোন জ্যাম পাইনি আমি।

আমি মিরপুর থেকে, জাবেদ মহাখলী এবং নাদিম মতিঝিল থেকে গুলিস্থান এসে একত্র হলাম।

পানাম সিটি যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি এসি/নন-এসি পরিবহণ রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হল, আজকে সব পরিবহনের এসি বাস চলাচল বন্ধ! তাই বাধ্য হয়ে আমরা বোরাক নন-এসি বাসে উঠলাম। বোরাক নন-এসি বাস জন প্রতি টিকিট মূল্য নিয়েছে ৪৩ টাকা করে।

দুপুর ১১:১৭ মিনিট। গুলিস্থান থেকে আমাদের বাস যাত্রা শুরু হল। ১০ই মহররম হওয়ার দিনটি সরকারী ছুটির দিন ছিল, তাই ঢাকার রাস্তা-ঘাট ছিল পুরাই ফাঁকা। প্রায় ৪০ মিনিট পর আমাদের বাস মোগড়াপাড়া বাস স্ট্যান্ড এ থামল।

আমরা বাস থেকে নেমে অটোরিক্সায় উঠলাম। একটা অটো রিক্সায় ৩ জন যাওয়া যায়। আবার ৫ জন নেয়ারমত অটোরিক্সাও রয়েছে। মোগড়াপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে পানাম সিটি এর দূরত্ব প্রায় ২ কিলোমিটার। অটো রিক্সা ভাড়া জন প্রতি ১০টাকা। আপনি চাইলে রিক্সা করেও যেতে পারেন।

পানাম সিটি

পানাম সিটি যাওয়ার পথে হাতের বা-দিকে বিশাল চমৎকার এক হোটেল এর দেখা পেলাম। এখানে এতো চমৎকার হোটেল দেখে খুবই অবাক হলাম। হোটেল এর নাম সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্ট ।

এরপর কিছুটা সামনে এগুলেই হাতের ডানে দেখা পেলাম সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর। আজ সরকারী ছুটি থাকায় সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর বন্ধ রয়েছে। এছাড়া সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার জাদুঘর বন্ধ থাকে।

আমরা চলে এলাম পানাম সিটি। আজ সরকারী ছুটি এবং সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর বন্ধ থাকায় পানাম সিটিতে দর্শনার্থীদের লক্ষ্য করার মত ভিড় রয়েছে।

পানাম নগরের ভিতরে প্রবেশ করে যা দেখলাম

পানাম নগর এর ভিতরে প্রবেশের জন্য ছোট একটি লোহার গেইট রয়েছে। আমরা ভিতরে প্রবেশ করলাম। কিছুটা হেটে সামনে গেলে বা দিকে রয়েছে টিকিট কাউন্টার আর চোখে পরবে পানাম সিটির ২/৩ তলা বিশিষ্ট উচু উচু বাড়ি।

পানাম নগরে আরিফ হোসেন, জাবেদ এবং নাদিম।

পানাম নগরে জন প্রতি টিকিট মূল্য ১৫টাকা। আমরা টিকিট সংগ্রহ করে ভিতরে প্রবেশ করলাম। টিকিট কাউন্টার এর পাশেই বাংলা এবং ইংরেজিতে পানাম সিটি সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বর্ণনা রয়েছে।

পানাম নগর কিসের জন্য বিখ্যাত

পানাম নগরে ঢুকেই আপনার চোখে পড়বে একটি সরু চিকন রাস্তার ধারে সারি সারি পুরনো দালান। দালান গুলো কোনটা ২তলা আবার কোনটা ১তলা বিশিষ্ট। বাড়িগুলোর স্থাপত্য নিদর্শন দেখেই বুঝতে পারবেন এখানে যে ধনী শ্রেণীর লোকেরা বসবাস করতেন।

পানাম সিটির বাড়ি গুলো মোঘল ও গ্রীক স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণ দেখা যায় এবং প্রত্যেকটি বাড়ি সুন্দর কারুকাজ করা।

প্রত্যেকটি বাড়ি সুন্দর কারুকাজ করা।

তাছারা এখানের কারুকার্য করা বাড়ি গুলোর নির্মাণকৌশলের দিক থেকে চমৎকার উদ্ভাবনী কৌশলের প্রমাণ মিলে।

এখানে তৈরি বাড়ি গুলোতে ঢালাই লোহার তৈরি ব্রাকেট ব্যাবহার লক্ষ্য করা যায়। তাছারা জানালায় ব্যবহার করা হয়েছে লোহার গ্রিল, ইউরোপে ব্যবহৃত কাস্ট আয়রনের কাজ, মেঝেতে লাল, সাদা, কালো মোজাইকের কারুকাজ লক্ষ্য করা যায়।

কারুকাজ

পানাম নগরে সড়কের উত্তর পাশে ৩১টি এবং দক্ষিণ পাশে ২১টি বাড়ি নিয়ে মোট ৫২ টি বাড়ি উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া আরও রয়েছে সজিদ, মন্দির, গির্জা, মঠ, চিত্রশালা, খাজাঞ্চিখানা, গোসলখানা, নাচঘর, পান্থশালা, দরবার কক্ষ, গুপ্ত পথ, বিচারালয়, পুরনো জাদুঘর এবং ৪০০ বছরের পুরনো টাকশাল বাড়ি।

এখানে ৫২টি বাড়ির প্রত্যেকটি একটি থেকে আরেকটি নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থিত। বাড়ি গুলো বহির্বাটী এবং অন্যটি অন্দর-বাটি এই দুই ভাগে বিভক্ত এবং বাড়ির সামনে উন্মুক্ত উঠান রয়েছে।

পানাম নগরের বর্তমান অবস্থা

ঈসা খাঁ প্রায় ১৫ শতকের দিকে নির্মিত সোনারগাঁয়ের বাংলার প্রথম রাজধানী এখন হারানো নগরী হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে। কারন বাংলার প্রথম রাজধানী এখন ধ্বংসের পথে। আর কিছু বছর পর হয়তো এই পানাম সিটি এর কোন চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাবে না।

পানাম সিটির বর্তমান অবস্থা।

সংস্কারের অভাবে ভবনগুলো ধিরে ধিরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে। বেশ কয়েকটি বাড়ির অবস্থা খুবই খারাপ। এখানে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই “ঝুঁকিপূর্ণ ভবন” লিখা সাইনবোর্ড লাগানো আছে।

এছাড়া ভবনের জানালাগুলো ইটের গাঁথুনি দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যে গুলো লোহার শিক দিয়ে আটকানো আছে সেই লোহার শিক বাঁকা করে লোকজনের ভিতরে প্রবেশ লক্ষ্য করার মত।

প্রায় অনেক গুলো দালান এর ইট বের হয়ে এসেছে। একটি টিনের ঘর ভেঙ্গে পড়ে থাকতে দেখলাম আমরা।

আপনি জানেন কি? পানাম সিটির মূল প্রবেশ পথের ছোট্ট খালটির উপরে একটি সেতু ছিলো, যার কোনো অস্তিত্ব এখন আর অবশিষ্ট নেই। অযত্ন আর অবহেলায় পানাম নগরের বাড়িঘরগুলোতে শ্যাওলা ধরেছে, ভেতরের পরিবেশটা স্যাঁতস্যাঁতে, গোমট, অন্ধকার।

বাড়িগুলোর দেয়ালে গজাচ্ছে গাছপালা, অনেক বাড়ির ভিতরে ঢুকে গেছে গাছের শিকড়-বাকড়। অনেক ঘরের চৌকাঠ ও রেলিং খুলে পড়েছে। জানা যায় এখান থেকে চুরি হচ্ছে কড়িকাঠ ও তক্তা!

এক সময়ের বাংলার রাজধানীর কি বেহাল অবস্থা আজ। বর্তমানে বাড়িগুলোর ছাদ ধ্বসে পড়ছে, ভেঙ্গে পড়ছে সিঁড়ি ও দেয়াল।

এমতাবস্থায় এগুলো যদি রক্ষণাবেক্ষণ না করা হয় বা সংস্কার কাজ না করা হয় তাহলে খুব শিঘ্রি পানাম নগরের ইতিহাস মুছে যাবে।

আরও: তাজমহল সোনারগাঁও

পানাম নগর ভ্রমণ গাইড

পানাম নগর ভ্রমণ গাইড সম্পর্কে জানা যাক। কীভাবে আপনি পানাম সিটি ভ্রমণে যাবেন তা নিয়েই ভ্রমণ গাইড।

ঢাকা থেকে দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরত্বে পানাম সিটি অবস্থিত। যা, নারায়ণগঞ্জ জেলার মোগরাপাড়া পয়েন্টে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উত্তরে প্রায় ২.৫ কিলোমিটার অদূরে সোনারগাঁও থানার একটি নিকটতম শহর।

প্রবেশ মূল্য: ১৫ টাকা।

ঢাকা থেকে বাস ভ্রমণ

আপনাকে ঢাকা গুলিস্তান থেকে স্বদেশ, বোরাক, দোয়েল ও সোনারগাঁ নামক বাসে উঠে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় নামতে হবে।

  • স্বদেশ পরিবহণ
  • বোরাক পরিবহণ
  • দোয়েল পরিবহণ
  • সোনারগাঁ পরিবহণ

মোগরাপাড়া থেকে লোকশিল্প জাদুঘরের দূরত্ব প্রায় ২ কিলোমিটার। চাইলে রিক্সা অথবা সিএনজি তে করে যেতে পারেন। এছাড়া নিজস্ব পরিবহণ থাকলে সেটা দিয়েও যেতে পারেন। কারন যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো।

পার্কিং ব্যবস্থা আছে কি? হ্যাঁ, জাদুঘরের সাথেই আছে পার্কিং স্থান। এখান থেকে পানাম সিটি খুব কাছেই। চাইলে হেঁটেই যেতে পারবেন।

বাস টিকিট মূল্য: গুলিস্তান থেকে ৪০ হতে ৫০ টাকা (এসি/নন-এসি)।

পানাম সিটি থাকার হোটেল

আপনি যদি ঢাকার আশপাশ থেকে ভ্রমণে আসেন তাহলে ১ দিনেই পানাম সিটি ভ্রমণ করে চলে যেতে পারবেন। তবে যদি দূর থেকে এখানে আসেন তাহলে আপনার থাকার জন্য এখানে খুব ভালো মানের হোটেল রয়েছে।

  • সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্ট – সোনারগাঁও
  • হোটেল মেহেরান – নারায়ণগঞ্জ
  • হোটেল সোনালী – নারায়ণগঞ্জ
  • হোটেল সুগন্ধা – নারায়ণগঞ্জ

পানাম নগর ভ্রমণ টিপস

পানাম নগর ভ্রমণে কিছু ভ্রমণ টিপস দেয়া হল-

  • পানাম নগরের প্রত্যেকটি ভবন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ তাই নির্দেশনা অমান্য করে কোন ভবনের উপরে উঠবেন না। (আমরা ভ্রমণে গিয়ে দেখেছি যে, একজন নির্দেশনা অমান্য করে ভবনে উঠার পর নিচে পড়ে গিয়ে পায়ে ব্যথা পেয়েছেন)
  • ভ্রমণে অবশ্যই সাথে করে খাবার পানি নিয়ে নিবেন।
  • কোন ভবনের ভিতরে বেশীক্ষণ থাকবেন না। কারন, ভিতরটা অন্ধকার, স্যাঁতস্যাঁতে এবং গোমটবাঁধা। এতে বেশীক্ষণ থাকলে শরীরে এলার্জি শুরু হয়ে যেতে পারে।
  • জনমানব শূন্য স্থানে বেশিক্ষণ একা থাকবেন না।
  • সন্ধ্যার পর এখানে না থাকাই ভালো।
  • প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট করবেন না।
  • ভিতরে প্রস্রাব বা পায়খানা করার মতো জঘন্য কাজ করবেন না।
  • প্রস্রাব বা পায়খানা করার জন্য আলাদা টয়লেট রয়েছে সেটা ব্যবহার করুন।
  • টিকিট সংগ্রহ না করে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করবেন না।
  • বৃষ্টির সময় সঙ্গে ছাতা রাখুন অথবা রেইনকোট রাখুন।
  • ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের নিচে বসবেন না।
  • ক্যামেরা, মানিব্যাগ যাবতীয় জিনিস নিজের সঙ্গে রাখুন।
  • ছবি তোলার সময় ব্যাগ বা সঙ্গে থাকা কোন কিছু পাশে রাখলে সেটার প্রতি খেয়াল রাখুন।

আপনার ভ্রমণ হোক রোমাঞ্চকর এবং আনন্দময়।


ট্রিপডো ফেসবুক: TripDaw