করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) গাইডলাইন ও প্রশ্ন-উত্তর। করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) ইংরেজিতে: Coronavirus (COVID-19) একটি করোনাভাইরাস রোগ ২০১৯ যার নাম কোভিড-১৯ । এটি একটি বৈশ্বিক মহামারী রোগ।

আপনারা সবাই এই বিষয়ে জানেন। তবে অনেকের মাঝে এই কোভিড ১৯ নিয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। আজকের লেখায় আমি আপনাকে করনা ভাইরাস সম্পর্কে বিস্তারিত বলার চেষ্টা করব। সাথে থাকছে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) নিয়ে গাইডলাইন ও কিছু সাধারণ প্রশ্ন-উত্তর।

ট্রিপডো একটি ভ্রমণ বিষয়ক ব্লগ। এখানে কোন করোনা ভাইরাস এর চিকিৎসা দেয়া হয় না। সঠিক চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে এবং করোনা ভাইরাস নিয়ে আরও বিস্তারিত জানার জন্য WHO এর ওয়েবসাইট অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

যদিও এখন পর্যন্ত করনা ভাইরাস এর কোন চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। তারপরও চিকিৎসকরা কোভিড ১৯ থেকে বাঁচার জন্য কিছু গাইডলাইন দিয়েছেন। চলুন সব কিছু নিয়ে বিস্তারিত জানা যাক।

লেখাটা অনেক বড় হবে। আপনার হাতে যদি সময় থাকে তাহলে বিস্তারিত পড়ার জন্য বলব। না হলে নিচের অপশন থেকে ক্লিক করে আপনার প্রয়োজনিয় অংশটুকু পড়ে নিন।

চলুন শুরু করা যাক…

পরিচ্ছেদসমূহ

শুরুতেই কোভিড -১৯ নিয়ে শুরুর ইতিহাস জানা যাক। তারপর আমারা এক এক করে আরও বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব।

রোগ রোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)
ভাইরাসের প্রজাতি সার্স-কোভ-২
গ্রুপ ৪র্থ গ্রুপ ((+)ssRNA)
বর্গ নিদুভাইরাস
পরিবার করোনাভাইরদা
আদর্শ প্রজাতি করোনাভাইরাস
উৎপত্তি স্থল উহান নগরী, হুপেই প্রদেশ, চীন
প্রথম সংক্রমণ ১লা ডিসেম্বর ২০১৯
লক্ষণ জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট
রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি rRT-PCR পরীক্ষা, ইমিউনিঅ্যাসে, সিটি স্ক্যান
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া

করোনা ভাইরাস শুরুর ইতিহাস

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে ইন্টারনেট ঘেটে যা জানতে পারলাম ১৯৬০ সালের দিকে প্রথম এই ভাইরাস আবিষ্কৃত হয়েছিল। সংক্রামক ভাইরাসটি প্রথম মুরগির মাধ্যমে ব্রঙ্কাইটিস ভাইরাস হিসেবে পাওয়া যায়। মুরগি থেকে পরে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে চলে আসে। মানুষের মাঝে সাধারণ সর্দি-হাঁচি-কাশি হিসেবে এই ভাইরাস প্রকাশ পায়।

তখন এই ভাইরাস এর ২টি নামকরণ করা হয়েছিল।

১। মনুষ্য করোনাভাইরাস ২২৯ই

২। মনুষ্য করোনাভাইরাস ওসি৪৩

পরে অবশ্য এই ভাইরাস এর বেশ কিছু প্রজাতি পাওয়া যায়। আর সর্বশেষ ২০১৯ সালের চীনে এসএআরএস-সিওভি-২’ পাওয়া যায়। যা আমাদের কাছে নোভেল করোনাভাইরাস নামে পরিচিত।

সবগুলো ভাইরাসের ক্ষেত্রেই শ্বাসকষ্টের গুরুতর সংক্রমণ দেখা গেছে। যেটি করনা ভাইরাসেও দেখা যায়।

এইতো গেলো নোভেল করোনা ভাইরাস এর শুরু ইতিহাস। এবার আমরা করনা ভাইরাস সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করব।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

চীনের উহান শহরের একটি লোকার বাজার থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ২০১৯ সালের ১লা ডিসেম্বরে প্রথম এই ভাইরাস সংক্রমণ হতে দেখা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাসটিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নাম দেন ‘২০১৯-এনসিওভি’।

২০২০ সালের এপ্রিল ৯ পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের ১৯০ টিরও বেশি দেশ ও অধীনস্থ অঞ্চলে ১৫,১৪,৮৬৬ -এরও বেশি ব্যক্তি করোনাভাইরাস রোগ ২০১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন বলে সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে।

নিচে বাংলাদেশের সমীক্ষাটি দেখুন-

আক্রান্ত ৩৩০
সুস্থ ৩৩
মৃত্যু ২১
সূত্র: আইইডিসিআর এপ্রিল, ৯, ২০২০

নিচে বিশ্বের সমীক্ষাটি দেখুন-

আক্রান্ত ১৫১৪৮৬৬
দেশ ১৮৪
মৃত্যু ৮৮৪৪৩
সূত্র: জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি – এপ্রিল, ৯, ২০২০

চীনের উহানে দেখা দেওয়া ভাইরাস প্রজাতিটি ‘এসএআরএস-সিওভি’ প্রজাতির সাথে ~৭০% জিনগত মিল পাওয়া গেছে। অনেকেই অনুমান করে বলছেন নতুন এ প্রজাতির ভাইরাসটি সাপ থেকে এসেছে। আবার অনেক গবেষক এ মতের বিরোধীতা করেন।

করোনাভাইরাস এর নামকরণ

করোনা ভাইরাস এর নামকরণ করা হয়েছে লাতিন শব্দ করোনা থেকে। করোনা অর্থ মুকুট বা হার। এছাড়া করোনা শব্দটি গ্রিক κορώνη korṓnē থেকে এসেছে। যার অর্থ হচ্ছে, মালা বা হার।

মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে ভিরিয়নের (ভাইরাসের সংক্রামক আকার) বৈশিষ্ট্যমূলক উপস্থিতিকে নির্দেশ করে থাকে। ভিরিয়নের বিশাল কন্দাকৃতি পৃষ্ঠ অভিক্ষেপযুক্ত প্রান্ত রয়েছে যা মুকুটের স্মৃতি তৈরি করে। এর অঙ্গসংস্থান ভাইরাল স্পাইক পেপলোমিয়ার দ্বারা তৈরি হয়েছে যেগুলো মূলত ভাইরাসের পৃষ্ঠে অবস্থিত প্রোটিন।

আশাকরি করোনাভাইরাস নামটির উৎপত্তি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

কোভিড – ১৯ এর অন্যান্য নাম

কোভিড ১৯ বা করোনা ভাইরাস এর বেশ কিছু প্রচলিত নাম রয়েছে। সেগুলো হল:

  • ২০১৯-nCoV তীব্র শ্বসনযন্ত্র ব্যাধি
  • নোভেল করোনাভাইরাস নিউমোনিয়া
  • উহান নিউমোনিয়া
  • উহান ফ্লু
  • করোনাভাইরাস
  • সার্স-কোভ-২
  • অনানুষ্ঠানিকভাবে, এক শব্দে করোনা

নোভেল করোনা ভাইরাস এর আকার

চীনের উহানের করোনা ভাইরাসটি অপেক্ষাকৃত বড় আকারের। করোনা ভাইরাস এর আকার প্রায় ১২৫ ন্যানোমিটার (অর্থাৎ ১ মিটারের প্রায় ১ কোটি ভাগের এক ভাগ)। ইলেক্ট্রন মাইক্রোগ্রাফগুলিতে ভাইরাসের আচ্ছাদনটি ইলেক্ট্রন গাঢ় শাঁসগুলির একটি পৃথক জোড়া হিসাবে উপস্থিত হয়।

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)

আকারে বড় বলে ভাইরাসটি বাতাসে কয়েক ঘণ্টার বেশি ভাসন্ত অবস্থায় থাকতে পারে না এবং কয়েক ফুটের বেশী দূরত্বে গমন করতে পারে না। তবে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের মতো এটিও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংস্পর্শের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তির শরীরে ছড়াতে পারে।

করোনা ভাইরাসের জীবনচক্র

করোনা ভাইরাসের জীবনচক্র বুঝানোর জন্য কিছু বৈজ্ঞানিক ভাষা ব্যাবহার করা হবে। করোনা ভাইরাসের জীবনচক্র শুরু হয় ভাইরাল স্পাইক (S) গ্লাইকোপ্রোটিন পরিপূরক বাহক কোষের রিসিপ্টরে সংযুক্ত হওয়ার মাধ্যমে।

করোনা ভাইরাসের জীবনচক্র

এরপর, বাহক কোষ থেকে (মানব দেহের কোষ থেকে) নিঃসৃত প্রোটিয়েজ, রিসিপ্টর-সংযুক্ত স্পাইক প্রোটিনকে বিদীর্ণ করে এবং সক্রিয় করে দেয়।

বাহক কোষের প্রোটিয়েজের প্রাপ্তিসাপেক্ষ, বিচ্ছিন্নকরণ ও সক্রিয়করণ নির্ধারণ করে ভাইরাসটি বাহক কোষে অনুপ্রবেশ করবে এন্ডোসাইটোসিস নাকি বাহক কোষঝিল্লি এর সাথে ভাইরাল এনভেলপ সরাসরি একীভূত হওয়ার মাধ্যমে।

এখানেই শেষ নয়!

বাহক কোষে অনুপ্রবেশ করে, ভাইরাস কণাটি আবরণী মুক্ত হয় এবং কোষ সাইটোপ্লাজমে এর জিনোম প্রবেশ করে। করোনা ভাইরাস RNA জিনোমে একটি ৫’ মিথাইলেটেড ক্যাপ এবং ৩’ পলিয়াডেনাইলেটেড টেইল আছে, যা RNA কে ট্রান্সলেশনের জন্য বাহক কোষের রাইবোজোম এর সাথে সংযুক্ত করে।

ভাইরাসের প্রাথমিকভাবে অধিক্রমণকারী উন্মুক্ত পঠন কাঠামো, বাহক রাইবোজোম ট্রান্সলেশন করে দীর্ঘ পলিপ্রোটিন গঠন করে। পলিপ্রোটিনের নিজস্ব প্রোটিয়েজ আছে যা পলিপ্রোটিনটিকে বিদীর্ণ করে অনেকগুলো অগঠনমূলক প্রোটিন তৈরি করে।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষণ ও উপসর্গ

এখন আমরা করনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষণ ও উপসর্গ গুলো কি কি হতে পারে তা জানব।

  • জ্বর
  • অবসাদ
  • শুষ্ক কাশি
  • বমি হওয়া
  • শ্বাসকষ্ট
  • গলা ব্যাথা
  • অঙ্গ বিকল হওয়া
  • মাথা ব্যাথা
  • পেটের সমস্যা

আক্রান্ত ব্যক্তির উপসর্গের হার

উপসর্গ শতাংশজ্বর
জ্বর ৮৭.৯%
শুকনো কাশি ৬৭.৭%
ক্লান্তি ৩৮.১%
থুতু উৎপাদন ৩৩.৪%
শ্বাসকষ্ট ১৮.৬%
মাংসপেশীতে ব্যথা ১৪.৮%
গলা ব্যথা ১৩.৯%
মাথা ব্যথা ১৩.৬%
শরীর ঠাণ্ডা ১১.৪%
বমি বা বমি-বমিভাব ৫.০%
নাক বন্ধ ৪.৮%
ডায়রিয়া ৩.৭%
হ্যামোপটোসিস ০.৯%
কনজাঙ্কটিভাইটিস ০.৮%
তথ্যসূত্র: WHO

মানবদেহে কোভিড-১৯ এর লক্ষণসমূহ

এবার আমরা ছবিতে দেখব মানবদেহে কোভিড-১৯ এর লক্ষণসমূহ। আশাকরি এতে আপনার বুঝতে আরও সুবিধা হবে।

মানবদেহে কোভিড-১৯ এর লক্ষণসমূহ

গাইডলাইন ও প্রশ্ন-উত্তর


করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) গাইডলাইন ও প্রশ্ন-উত্তর এ করোনা ভাইরাস? এই ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়? রোগের কারণ গুলো কি কি? এই সংক্রমণ প্রতিরোধে আমাদের করণীয় কি? ইত্যাদি সম্পর্কে জানব।

করোনা ভাইরাস কি?

করোনাভাইরাস রোগ ২০১৯ বা কোভিড-১৯ মানুষের একটি সংক্রামক ব্যাধি যা গুরুতর তীব্র শ্বাসযন্ত্রীয় রোগলক্ষণসমষ্টি সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাস ২ (সার্স-কোভ-২) নামক এক ধরনের ভাইরাসের আক্রমণে হয়ে থাকে।

করোনাভাইরাসের লক্ষণ ও উপসর্গ গুলো কি কি?

ইতিমধ্যে উপরে করোনাভাইরাসের লক্ষণ ও উপসর্গ তালিকা অনুযায়ী দেয়া হয়েছে। তাছাড়া, সাধারণ উপসর্গ হিসেবে জ্বর, সর্দি, মাংসপেশীর ব্যথা, বমি-বমিভাব, ডায়রিয়া, বারবার থুতু সৃষ্টি গলায় ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। এছাড়া, কিন্তু কিছু গুরুতর ক্ষেত্রে ফুসুফুস প্রদাহ (নিউমোনিয়া) এবং বিভিন্ন অঙ্গের বিকলতাও দেখা যায়।

এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার কত?

এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার গড়ে ৩.৪%, যেখানে ২০ বছরের নিচের রোগীদের মৃত্যুর হার ০.২% এবং ৮০ বছরের উর্ধ্বে রোগীদের প্রায় ১৫% পর্যন্ত হতে দেখা যায়।

ভাইরাসটি কতদিন সুপ্তাবস্থায় থাকতে পারে?

কোভিড-১৯ রোগের সুপ্তাবস্থা সাধারণ ৫ থেকে ৬ দিন তবে তা ২ থেকে ১৪ দিনও হতে পারে।

করনা ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়?

করনা ভাইরাস সাধারণত শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে সৃষ্ট বায়ুকনা দিয়ে ছড়িয়ে থাকে যা শ্লেষ্মা এবং হাঁচি থেকে হয়ে থাকে।

তাছাড়া বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি হয়তো মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতিমধ্যেই ‘মিউটেট করছে’ অর্থাৎ সুপ্ত অবস্থায় আছে এবং গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করছে – যার ফলে এটি আরো বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

এই ভাইরাসটি অত্যন্ত দ্রুত ছড়াতে পারে। মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেক জনের দেহে ছড়ায়।

ভাইরাসটি প্লাস্টিক এবং স্টিলের উপর তিনদিন পর্যন্ত বেচে থাকতে পারে এবং অ্যারোসলে তিনঘণ্টা পর্যন্ত কার্যক্ষম থাকে।

আমরা যদি সংক্রমণের প্রথম প্রক্রিয়াটি কে ২টি ধাপে ভাগ করি তাহলে দ্বারায়-

১ম ধাপ: করোনাভাইরাস সংক্রমিত ব্যক্তি ঘরের বাইরে গিয়ে মুখ না ঢেকে হাঁচি-কাশি দিলে করোনাভাইরাস তার আশেপাশের ১ থেকে ২ মিটার পরিধির মধ্যে বাতাসে কয়েক ঘন্টা ভাসমান থাকতে পারে।

২য় ধাপ: এই করোনা ভাইরাস কণাযুক্ত বাতাসে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে অন্য ব্যক্তিদের ফুসফুসেও শ্বাসনালী দিয়ে করোনাভাইরাস প্রবেশ করতে পারে।

উপরের ২য় ধাপের প্রক্রিয়াটিও কয়েক ধাপে ঘটে।

১ম ধাপ: করোনা ভাইরাস সংক্রমিত ব্যক্তি যদি কাশি দেয়ার শিষ্টাচার না মানেন, তাহলে তার হাতে বা ব্যবহৃত বস্তুতে করোনাভাইরাস লেগে থাকবে।

২য় ধাপ: এখন ঐ ব্যক্তি যদি তার পরিবেশের কোথাও যে কোনও বস্তুর পৃষ্ঠতলে সেই করোনাভাইরাস যুক্ত হাত দিয়ে স্পর্শ করেন, তাহলে সেই পৃষ্ঠতলে করোনাভাইরাস পরবর্তী একাধিক দিন লেগে থাকতে পারে।

৩য় ধাপ: অন্য কোনও ব্যক্তি যদি সেই করোনাভাইরাস যুক্ত পৃষ্ঠে হাত দিয়ে স্পর্শ করে, তাহলে ঐ নতুন ব্যক্তির হাতে করোনাভাইরাস লেগে যাবে।

৪র্থ ধাপ: এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, হাতে লাগলেই করোনাভাইরাস দেহের ভেতরে বা ফুসফুসে সংক্রমিত হতে পারে না। তাই এখন নতুন ব্যক্তিটি যদি তার সদ্য-করোনাভাইরাস যুক্ত হাত দিয়ে নাক, মুখ বা চোখ স্পর্শ করেন, কেবল তখনই করোনাভাইরাস ঐসব এলাকার উন্মুক্ত শ্লেষ্মাঝিল্লী দিয়ে দেহের ভিতরে প্রবেশ করবে ও প্রথমে গলায় ও পরে ফুসফুসে বংশবিস্তার করা শুরু করবে।

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয় কি?

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে আমাদের করণীয় কি এই বিষয় নিয়ে এখন আলোচনা করব। এখন যে বিষয় গুলো আপনার সামনে উপস্থাপন করা হবে সেগুলো একটু মনোযোগ সহকারে পড়ার এবং বোঝার চেষ্টা করবেন।

করোনভাইরাস কিভাবে ছড়ায় তা আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি। উপরে দেয়া করোনাভাইরাস ছড়ানোর ২টি প্রক্রিয়ার শুরুতেই, কিংবা ছড়ানোর প্রতিটি অন্তর্বতী ধাপেই যদি করোনাভাইরাসকে প্রতিহত করা যায়, তাহলে সফলভাবে এই ভাইরাস ও রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

এবার আমি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিব। আর, নিচের পরামর্শগুলি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করা সকলের আবশ্যিক কর্তব্য।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি

এই ভাইরাস থেকে বাচার জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। করোনা কোনও লক্ষণ-উপসর্গ ছাড়াই দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে যে কোনও ব্যক্তির দেহে তার অজান্তেই বিদ্যমান থাকতে পারে। আপনি এই ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা তা প্রথমে বুঝতেই পারবেন না।

আর এই ভাইরাসের সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হল এটাই। আপনি হয় এমন কারো সাথে মিশছেন যিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। অথচ আপনার আপনি বুঝতেই পারবেন না যে তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। আপনার অজান্তে আপনার শরীরে চলে আসবে এই ভাইরাস। আপনার থেকে চলে যাবে আরেকজনে কাছে। এভাবেই এটা ছড়াচ্ছে।

এ কারণে জনসমাগম বেশি আছে এরকম জায়গা বা এলাকা অতি-আবশ্যক প্রয়োজন না হলে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে যাতে বাতাসে ভাসমান সম্ভাব্য করোনাভাইরাস কণা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ না করতে পারে। সরকার এবং ডাক্তারগণ এই বিষয় গুলোই বার বার বলার চেষ্টা করছেন। এই ক্ষেত্রে সবাইকে WHO এর নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে।

বার বার হাত ধুয়ে জীবাণুমুক্তকরণ

নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস তৈরী’র মাধ্যমে আপনি কোভিড ১৯ করনা ভাইরাস জীবাণু’র সংক্রমন থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

জীবনযাপনের প্রয়োজনে মানুষকে প্রতিনিয়তই হাত দিয়ে নানা জিনিস-পত্র স্পর্শ করতে হয়। তাই এগুলি স্পর্শ করার পরে হাত ভাল করে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরী। কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড এলকোহল যুক্ত সাবান বা হেন্ডওয়াস দিয়ে হাত ধুতে হবে।

হেন্ড সেনিটাইজার দিয়েও হাত জীবাণুমুক্ত করতে পারেন। হেন্ড সেনিটাইজার ব্যাবহারের ২০ সেকেন্ড পর হাত দিয়ে খাবার খাবেন।

কিভাবে হাত ধুবেন

  • প্রথমে হাত পরিষ্কার পানিতে ভাল করে ভিজিয়ে নিতে হবে।
  • এর পর হাতে বিশেষ জীবাণুমুক্তকারক সাবান (সম্ভব না হলে সাধারণ সাবান) প্রয়োগ করতে হবে ও ফেনা তুলে পুরো হাত ঘষতে হবে।
  • হাতের প্রতিটি আঙুলে যেন সাবান লাগে, তা নিশ্চিত করতে হবে, এজন্য এক হাতের আঙুলের ফাঁকে আরেক হাতের আঙুল ঢুকিয়ে ঘষে কচলাতে হবে।
  • দুই হাতের বুড়ো আঙুল সাবান দিয়ে ঘষা নিশ্চিত করতে হবে।
  • এক হাতের তালুর সাথে আরেক হাতুর তালু ঘষতে হবে এবং এক হাতের তালু দিয়ে আরেক হাতের পিঠও সম্পূর্ণ ঘষতে হবে।
  • প্রতিটি নখের নিচেও ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে।
  • ঘড়ি, আংটি বা অন্য যেকোন হাতে পরিধেয় বস্তু খুলে সেগুলির নিচে অবস্থিত পৃষ্ঠও পরিষ্কার করতে হবে।
  • কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে ফেনা তুলে ভাল করে হাত ঘষতে হবে।
  • পাত্রে রাখা স্থির পানিতে নয়, বরং পড়ন্ত পরিষ্কার পানির ধারাতে হাত রেখে ভাল করে হাত ধুয়ে সম্পূর্ণ সাবানমুক্ত করতে হবে।
  • হাত ধোয়ার পরে তোয়ালে কিংবা রুমাল নয়, বরং একবার ব্যবহার্য কাগজের রুমাল দিয়ে সম্পূর্ণরূপে হাত শুকিয়ে নিতে হবে, কেননা গবেষণায় দেখা গেছে যে ভেজা হাতে ভাইরাস ১০০ গুণ বেশী বংশবিস্তার করে। একাধিক ব্যক্তির ব্যবহৃত তোয়ালে দিয়ে হাত শুকানো যাবে না, এবং একই তোয়ালে দিয়ে বারবার হাত শুকানো যাবে না, তাই একবার-ব্যবহার্য কাগজের রুমাল ব্যতীত অন্য যেকোনও ধরনের তোয়ালে বা রুমাল ব্যবহার করা উচিত নয়।
  • হাত শুকানোর কাগজের রুমালটি দিয়ে ধরেই পানির কল বন্ধ করতে হবে এবং শৌচাগারের দরজার হাতল খুলতে হবে। পানির কল ও শৌচাগারের দরজার হাতলে ভাইরাস লেগে থাকতে পারে।এরপর কাগজের রুমালটি ঢাকনাযুক্ত বর্জ্যপাত্রে ফেলে দিতে হবে।
  • যেহেতু দিনে বহুবার হাত ধুতে হবে, তাই ত্বকের জন্য কোমল সাবান ব্যবহার করা শ্রেয়।
  • সাবান-পানির ব্যবস্থা না থাকলে কমপক্ষে ৬০% অ্যালকোহলযুক্ত বিশেষ হাত জীবাণুমুক্তকারক দ্রবণ (হ্যান্ড স্যানিটাইজার) দিয়ে হাত কচলে ধুতে হবে। তবে সুযোগ পেলেই নোংরা হাত সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া সবচেয়ে বেশী উত্তম।

নাক, মুখ ও চোখ হাত দিয়ে স্পর্শ করা যাবে না

নাক, মুখ ও চোখ হাত দিয়ে স্পর্শ করা যাবে না। ইংরেজি অক্ষর T এর মত করে যদি আপনি আপনার চোখ, নাক ও মুখ কে ধরেন তাহলে এই তিনটি স্থান হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন না। কারন ভাইরাস আপনার শরীরে এই ৩টি মাধ্যম দিয়েই প্রবেশ করবে।

করোনাভাইরাস বহনকারী সম্ভাব্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে করণীয়

  • যে ব্যক্তির জ্বর, সর্দি, কাশি ও হাঁচি হচ্ছে, তার থেকে ন্যূনতম ৩ থেকে ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, যাতে বাতাসে ভাসমান ভাইরাস কণা শ্বাসগ্রহণের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ না করে।
  • রাস্তায় ও যত্রতত্র থুতু ফেলা যাবে না, কেননা থুতু থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারে।
  • হাঁচি-কাশি দেওয়া ব্যক্তিকে অবশ্যই কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় অস্থায়ী কাগজের রুমাল বা টিস্যুপেপার দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখতে হবে এবং সেই কাগজের রুমাল সাথে সাথে বর্জ্যে ফেলে দিতে হবে। খালি হাত দিয়ে কাশি-হাঁচি ঢাকা যাবে না, কেন না এর ফলে হাতে জীবাণু লেগে যায় (হাত দিয়ে হাঁচি-কাশি ঢাকলে সাথে সাথে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে)। কাগজের রুমাল না থাকলে কনুইয়ের ভাঁজে বা কাপড়ের হাতার উপরের অংশে মুখ ঢেকে হাঁচি-কাশি দিতে হবে।
  • পরিচিত কারও করোনাভাইরাসের লক্ষণ-উপসর্গ দেখা গেলে সাথে সাথে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা জরুরী ফোনে যোগাযোগ করতে হবে যাতে তাকে দ্রুত পরীক্ষা করা যায় এবং প্রয়োজনে সঙ্গনিরোধ (কোয়ারেন্টাইন) করে রাখা যায়।

করোনা ভাইরাসের ঔষধ কি?

এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের কোন টিকা বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। তবে করোনার ভ্যাকসিন তৈরির জোর চেষ্টা চলছে। গবেষকরা দিন-রাত এক করে গবেষণা করে যাচ্ছেন। ভাইরাসের ঔষধ তৈরির জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করা হচ্ছে।

তবে ডাক্তারগণ পরামর্শ হিসেবে বলছেন- জ্বর হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেতে হবে। বেশি করে পানি খেতে হবে। বিশ্রামে থাকতে হবে। কুসুম গরম পানি খেতে পারেন। এছাড়া ডাবের পানি বা অন্যান্য ফলমূল এর জুস খেতে পারেন।

আমি করোনা আক্রান্ত হয়েছি কিনা বুঝবো কিভাবে?

যদিও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রথমে বুঝা যায় না। তারপরও আপনি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন কিনা বুঝার জন্য কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ রয়েছে।

Live Corona Test নামে বাংলাদেশের একটি ওয়েবসাইট রয়েছে। আপনি এখান থেকে ঘরে বসে আপনার করোনা পরিক্ষা করতে পারেন।

ওয়েবসাইট: লাইভ করোনা টেস্ট

আপনার যদি জ্বর, কাশি এবং শ্বাস নিতে সমস্যা হয় তবে তাড়াতাড়ি চিকিৎসা সেবা নিন

আপনি অসুস্থ বোধ করলে বাড়িতেই থাকুন। আপনার যদি উচ্চ জ্বর হয়, তবে মাঝারি থেকে তীব্র কাশি এবং শ্বাসকষ্টে অসুবিধা হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যে এটি আরও খারাপ হয়, চিকিত্সা সেবা গ্রহণ করুন এবং IEDCR এর যে কোন একটি হটলাইনে কল করুন।

করোনা চিকিৎসায় জরুরী নাম্বার গুলো কি কি?

করোনা চিকিৎসায় বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি জরুরী নাম্বার রয়েছে। নাম্বারগুলো হল-

16263 333 10655
01944333222 01937000011 01937110011
01927711784 01927711785 01401184551
01401184554 01401184555 01401184556
01401184559 01401184560 01401184563
01401184568 01550064901 01550064902
01550064903 01550064904 01550064905

এছাড়া ফেসবুকের মাধ্যমে IEDCR এর কন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন: IEDCR, COVID-19 Control Room

করোনা ভাইরাস নিয়ে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস

এবার আমরা করোনাভাইরাস নিয়ে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস সম্পর্কে জানব।

বাসায় ঔষধ সহ প্রয়োজনীয় জিনিস মজুত রাখা

বাসায় ঔষধ সহ প্রয়োজনীয় জিনিস মজুত রাখা অত্যন্ত জরুরী। বাসার বৃদ্ধরা দুর্বল ও দীর্ঘদিন অসুস্থ হলে বেশ কিছু সপ্তাহের ওষুধ ও অন্যান্য জিনিস বাড়িতে রাখতে হবে। প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ, শুকন খাবার ইত্যাদি আগে থেকেই এনে রাখতে হবে।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন

বাসা এবং নিজেকে সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। প্রতি ১ ঘন্টা পর পর সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে।

যদি বাসায় হ্যান্ডওয়াশ-পানি না থাকে, সে ক্ষেত্রে স্যানিটাইজার দিয়েও হাত ভালোভাবে ঘষে নিতে হবে। নিয়মিত বাড়ি ও কাজের জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করুন।

কোন জিনিস শেয়ার করবেন না

একজনের খাবার অন্যজন ভাগ করে খাবেন না। খাবারের প্লেট বা পানির গ্লাস একজনের টা আরেকজন ব্যাবহার করার পূর্বে ভালো করে ধুয়ে নিন।

জামা-কাপড়, তোয়ালে ইত্যাদি একজনেরটা অন্যজন ব্যাবহার করবেন না। কেউ অসুস্থ হলে প্রয়োজনে বাড়ির একটি আলাদা ঘরে অসুস্থ সদস্যকে রেখে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আলাদা শৌচাগারের ব্যবস্থাও করলে আরও ভালো হয়।

আতঙ্কিত না হয়ে, আলোচনা করুন

অযথা আতঙ্কিত না হয়ে কোভিড-১৯ সম্পর্কে প্রতিবেশী, পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে আলোচনা করতে হবে। কেউ আক্রান্ত হলে আগাম প্রস্তুতি কী হবে, তা নিয়ে পরিকল্পনা করে রাখুন।

কোভিড-১৯ সম্পর্কে যতটা সম্ভব সচেতনতা বাড়াতে হবে, বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটা আরও প্রয়োজন। তাঁরা যাতে কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে না বের হন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

চিকিৎসকদের দেয়া পরামর্শ মেনে চলুন

ডব্লিওএইচও (WHO) এর দেয়া নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করুন। এছাড়া চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞদের নির্দেশ মেনে চলাই শ্রেয়। বিভিন্ন ধরনের ফিট থাকার শরীরচর্চা বাসায় থেকেই করতে পারেন। স্বাস্থ্যকর খাবার এ সময় খুব প্রয়োজন। সর্দি-কাশি হলে তা এড়িয়ে না গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মাস্ক ব্যাবহার করুন

মাস্ক ব্যাবহার করার চেষ্টা করুন। মানুষের শরীরে ভাইরাস চোখ, নাক ও মুখ দিয়ে প্রবেশ করে। তাই আপনি যদি আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে, মাস্ক ব্যাবহার করুন। আর নিজে অসুস্থ না হলেও, অন্যের সংস্পর্শে এড়াতে মাস্ক পড়তে পারেন

আরও: জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান – মিরপুর, বাংলাদেশ


সাধারণ কিছু প্রশ্ন-উত্তর

এবার আমরা কিছু সাধারণ প্রশ্ন-উত্তর জানব। যে প্রশ্ন গুলো ইদানীং খুব শুনতে পাচ্ছি।

হোম কোয়ারেন্টিন কী?

হোম কোয়ারেন্টিন মানে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি নিজ বাড়িতে স্বেচ্ছায় একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে থাকবেন এবং এ সময় নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।

কত দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে?

কোয়ারেন্টিনে কতদিন থাকতে হবে এটা নির্ভর করবে ওই রোগের ইনকিবেশন পিরিয়ড বা জীবাণু প্রবেশ থেকে রোগ প্রকাশিত হওয়ার মধ্যবর্তী সময় কত দিন, তার ওপর। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ ১৪ দিন ধরা হয়েছে।

আইসোলেশন কী?

কারো মধ্যে যখন জীবাণুর উপস্থিতি ধরা পড়বে বা ধরা না পড়লেও তার মধ্যে উপসর্গ থাকবে তখন তাকে আলাদা করে যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে তাকে বলা হয় আইসোলেশন।

পিপিই (PPE) কি?

ইংরেজিতে PPE: Personal protective equipment যার বংলা অর্থ- পিপিই: ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ।

পিপিই একধনের পোশাক। পিপিই তে অগ্নি প্রতিরোধক বা রাসায়নিক প্রমাণ পোশাক, গ্লাভস, হার্ড টুপি, শ্বাসযন্ত্র, নিরাপত্তা চকচকে ইত্যাদি রয়েছে।

ভেন্টিলেটর কী?

রোগীর ফুসফুস যদি কাজ না করে তাহলে রোগীর নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের কাজটা ভেন্টিলেটর করে দেয়। এর মাধ্যমে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে এবং পুরোপুরিভাবে সেরে উঠতে রোগী হাতে কিছুটা সময় পান। নানা ধরনের ভেন্টিলেশন যন্ত্র দিয়ে এই কাজটা করা হয়। এক একটি ভেন্টিলেটর এর দাম প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা।

ডব্লিওএইচও (WHO) কি?

ইংরেজিতে- WHO: World Health Organization বাংলায়- ডব্লিওএইচও: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জাতিসংঘের একটি সহযোগী সংস্থা বা এজেন্সী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৪৮ সালের ৭ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত।বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসও পালন করা হয় প্রতি বছর ৭ এপ্রিল ।


আশাকরি করোনাভাইরাস নিয়ে আপনাকে কিছুটা ধারনা দিতে পেরেছি। এই ভাইরাসের কারনে বিশ্ব এখন থমকে গেছে প্রায়।

এই ভাইরাস মোকাবেলায় আমাদের সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সতর্ক হতে হবে। বেশি বেশি করে হাত ধুতে হবে। যতটা সম্ভব জন-সমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। আল্লাহ্‌ চায় তো এই সুন্দর পৃথিবী একদিন আবার সুস্থ হয়ে উঠবে।

সবাই সতর্ক থাকুন, সাবধানে থাকুন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন। বাসায় থাকুন। আল্লাহ্‌ আমাদের সদয় হোন। আমিন।