বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক গাজীপুর ভ্রমণ এবং ঘোড়ায় চড়া । সময়টা ছিল ০৮.০৩.২০১৯ । শুক্রবার সকাল প্রতিদিন এর ন্যায় সেদিন ও ঘুম থেকে উঠলাম কিন্তু সবদিন থেকে ওই দিনটা একটু আলাদা ছিলো আমার কাছে।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, গাজীপুর

আরও: প্রথম লঞ্চ ভ্রমণ, রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতা

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ভ্রমণ


আমি এবং আমার তিন অফিস কলিগ (মঞ্জু ভাই, জয়দেব দাদা এবং ফরহাদ) চারজন মিলে আগের রাতে প্লান করি আমরা কোথাও ঘুরতে যাব। আমরা সকলের সম্মতি ক্রমে সিদ্ধান্ত নেই, আমরা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে যাবো যেটা ঢাকার গাজীপুর জেলায় অবস্থিত।

ভ্রমণের দিন সকালে আমরা ঘুম থেকে উঠে পরি তারপর সবাই একে একে গোসল করে হালকা কিছু নাস্তা খেয়ে বের হয়ে পরি গাজীপুর এর উদ্দেশ্য। কাকরাইল মোড় থেকে আমরা মাওনাগামী বাস এ উঠে পরি আমাদের যাত্রাপথ ছিল গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ঢাকা ময়মনসিংহ রোডে।

আমরা বাস এ উঠে সিট দখল করে ফেলি, দূরভাগ্য ক্রমে আমাদের সকলের সিট বাসের একদম শেষের দিকে পরে বেশ হতাশা নিয়ে যাত্রা শুরু করি, আমরা বেশ দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকলাম টঙ্গি পার হবার পরে আমরা বেশ ভালো রকম যানজটের কবলে পরি।

আমরা সকাল দশটার দিকে যাত্রা শুরু করি কিন্তু গাজীপুর যেতেই আমাদের বেলা একটা পার হয়ে যায়। যানজটের কারন ছিল রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছিলো। গাড়ি যখন গাজীপুর চৌরাস্তা পার হয় তখন বেশ দ্রুতই এগোতে থাকে।

আমি বরাবরের মতো জানালার পাশের সিট দখল করে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে থাকি , রাস্তার দুই ধারে ঘন বন, চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ আমরা ভাওয়াল বনের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকি, দৃশ্য দেখতে দেখতে আমাদের কাংখিত স্থানে এসে পরি, যায়গার নাম টাও অদ্ভুত “বাঘের বাজার” ।

সেখানে নেমে আমাদের পেট পুজোঁ করে নেই। খাবার শেষ করে আমরা ইঞ্জিন চালিত রিকশা করে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের দিকে রওনা করি, মহাসড়ক থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার ভিতরে সাফারি পার্কের অবস্থান। সেখানে গিয়ে দেখি মানুষ আর যানবাহনে সয়লাব। যেহেতু এটি একটি পিকনিক স্পট আমরা দেরি না করে প্রবেশ টিকেট ক্রয় করে ভিতরে প্রবেশ করি।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে বিভিন্ন রকম পাখি ও মাছের সমারোহ

ভিতরে ঢুকেই প্রথমে নজরে পরে বিশাল বড় মানচিত্র যেখানে পার্ক এর যাবতীয় তথ্য দেওয়া আছে। সেখান থেকে মোটামুটি ধারণা নিয়ে আমরা হাটা শুরু করি। সেখানে বিভিন্ন রকম পাখি, মাছের সমারোহ ছিল।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে বিভিন্ন রকম পাখি

ঐখানে পাখি,মাছের এ্যকুরিয়াম নিয়ে একটা প্যাকেজ ছিলো আমার দামটা সঠিক মনে নাই তবে আনুমানিক ১৫০ টাকা হবে মনে হয়, সেখানে বেশ কিছু পরিচিত অপরিচিত পাখি মাছের সংগে দেখা হয় সেখান থেকে আমরা যাই কোর সাফারি দেখতে।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে বিভিন্ন রকম মাছের সমারোহ

কোর সাফারি

সাফারি পার্কের মুল আকর্ষন হলো “কোর সাফারি” কোর সাফারী পার্কে সাফারী গাড়ী ব্যতীত কোন পর্যটক প্রবেশ করতে পারবেন না তবে তিনি বন্যপ্রাণী বেষ্টনীতে মুক্ত অবস্থায় প্রাকৃতিক পরিবেশে বিচরণরত বন্যপ্রাণী সমূহ গাড়ীতে চড়ে অবলোকন করতে পারবেন।

ময়ূর

কোর সাফারী পার্ক ১৩৩৫ একর এলাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়-যার মধ্যে ২০.০ একরে বাঘ, ২১.০ একরে সিংহ, ৮.৫০ একরে কালো ভালুক, ৮.০ একরে আফ্রিকান চিতা, ৮১.৫০ একর চিত্রা হরিণ, ৮০.০ একরে সাম্বাব ও গয়াল, ১০৫.০ একরে হাতী, ৩৫.০ একরে জলহস্তী, ২২.০ একরে মায়া ও প্যারা হরিণ, ২৫.০ একরে নীলগাই এবং আরো কিছু বন্য প্রাণীর আবাসস্থল আছে।

ময়ূর

আমরা গাড়ি করে কোর সাফারি উপভোগ করি, কোর সাফারি শেষ করতে মিনিট ২০ সময় লাগে, কোর সাফারিতে ঢুকতে আমরা বিশাল লাইন এ দাঁড়িয়ে পরি প্রায় ১/২ ঘন্টা দাড়িয়ে থাকার পরে আমাদের সুযোগ হয় সাফারি গাড়িতে চড়বার।

কোর সাফারিতে ঢুকতে আমরা বিশাল লাইন এ দাঁড়িয়ে পরি প্রায় ১/২ ঘন্টা দাড়িয়ে থাকার পরে আমাদের সুযোগ হয়

আমরা গাড়ির ভেতর থেকে বিভিন্ন রকম প্রাণীর অবাধ বিচরণ দেখি।

ঘোড়ায় চড়া

কোর সাফারি শেষ করে আমরা সবাই কুমির, রঙিন মাছ,ময়ুর, উটপাখি, অজগর,বানর এগুলো কে মুক্ত অবস্থায় বিচরণ করতে দেখি।

ঘোড়ায় চড়া

আমরা বেশ কিছু সময় সেখানে কাটিয়ে আমরা প্রবেশ গেট এর দিকে ফিরে আসতে শুরু করি; যেহেতু সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছিল, পার্কের বাইরে এসে দেখি ঘোড়া নিয়ে কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছে তারা টাকার বিনিময়ে ঘোড়ার পিঠে চড়ার সুযোগ করে দেয়, আমি সে সুযোগ হাতছাড়া করতে চাই নাই, দরদাম করে আমি একটা ঘোড়ার পিঠে উঠে পরি অল্প একটু থাকার পরে আমরা ওইখানকার বাইরের পরিবেশ দেখতে থাকি মানুষের যেন মিলন মেলা ছিলো ।

তার পর সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় এবং ভীড় থেকে বাঁচতে আমরা সেখান থেকে দ্রুত প্রস্থান করি এবং মুল সড়কে চলে আসি আমাদের সেখান থেকে আসতে বেশ বেগ পেতে হয়।

কারন কোনো গাড়ির মধ্যেই তিল ধারণের যায়গা ছিলো না,আমরা সিধ্বান্ত নেই আমরা আর কিছুহ্মন অপেক্ষা করে তারপর রওনা করবো, ভাগ্যক্রমে আমরা একটা গাড়িতে উঠার সুযোগ পাই কিন্তু সেটা ছিল গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সেখান থেকে আমরা মহাখালীর গাড়িতে আসি।

মহাখালীতে এসে আমরা আবার গাড়ির সংকট এ পরি এখানেও বেশ বেগ পেতে হয় গাড়ির জন্য অবশেষে আল্লাহর রহমতে আমরা গাড়ি পাই এবং সেখান থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি, রাতের ১০ টার কিছু সময় পরে আমরা বাসায় পৌছাই। এভাবেই শেষ হয় আমাদের ভ্রমণ।


ট্রিপডো ফেসবুক: TripDaw